Bh Rubel

Learn and Be Succeed

বাবা-মাই সন্তানের ভালো বন্ধু

আপনি একজন বাবা অথবা মা। আপনার ভালোবাসায় সমৃদ্ধ আপনার শিশুটি । আপনার ভালোবাসা তার জন্য সবকিছু। আপনার ভালো বাসায়, সে বেড়ে ওঠে। আপনার ভালোবাসা এবং প্রার্থনা তার জন্য সম্পদ । সুতরাং ভালোবাসা দিতে সাবধান হোন কারণ আপনার ভালবাসা তার ভবিষ্যত তৈরি করার জন্য উপযুক্ত নয়।


আমি বিল্লাল হোসেন রুবেল। আমি কিছু অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাই যা আমার চোখের সামনে ঘটেছে ।

বাস্তবতা


আমি একটি পরিবার সম্পর্কে জানতাম যে, পরিবারটা ভালো বাসায় পরিপূর্ণ ছিল। এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে চার সদস্য ছিল পরিবারটিতে । বাবা-মা তাদের সন্তানদেরকে প্রচুর ভালোবাসতেন । ছেলে-মেয়েকে এতটা পছন্দ করতো যে তারা যা চাইতো সবই এনে দিত। তাদেরকে কোনো কিছুর অভাব বুঝতে দেওয়া হোতো না । সেখানে আমার একটি প্রশ্ন আছে “এটা কি ঠিক?” উত্তরটা আমরা পরে জানতে পারব। কিন্তু সন্তানরা বাস্তব জীবনের বাস্তবতা বুঝতে পারলো না। তাদের ছেলের বয়স যখন ১৪ বছর তখন সে মোটরসাইকেল চেয়ে বসলো , না দিলে সে তার পড়াশোনায় অংশ নিবে না, তার বাবা যখন তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল তখন সে আত্মহত্যার ঘোষণা করেছিল। অবশেষে, তার বাবা রাজি হয় এবং তাকে একটি নতুন মোটরসাইকেল কিনে দেয় যা তাদের পুত্রের হত্যাকারী।

আমার মতে বাইকটা হত্যাকারী না ,হত্যাকারী হলো সন্তানের প্রতি বাবা মার অতিরিক্ত ভালোবাসা। তাই বলে আমি বলছি না আপনারা সন্তানদের ভালোবাসবেন না । ভালো অবশ্যই বাসবেন ,কিন্তু সে ভালোবাসা যেন তাদের জন্য আর্শিবাদস্বরুপ হয়, অভিশাপস্বরুপ নয়।

আপনিই আপনার সন্তানের ভালো বন্ধু

আপনিতো আপনার সন্তানকে ভালোবাসেন? তার জন্য সবই করতে পারেন । আমিও স্বীকার করি আপনি সব কিছুই করতে পারেন। আপনি কী আপনার সন্তানের পড়ার টেবিলে ওর পাশে বসেন যতখন পর্যন্ত ‍ও পড়াশুনা করে ? আপনি কি তার খেলার সাথী হয়েছেন? বাবা হয়ে বন্ধুর মতো মা হয়ে বান্ধুবীর মত মিশেছেন ? যদি এগুলো করে থাকেন তাহলে আপনিই আপনার সন্তানকে সম্পূর্ণরুপে ভালোবাসেন।


প্রত্যেক বাবা – মাকে তার সন্তানদের সাথে বন্ধুর মতো মিশতে হবে ,তাদেরক বুঝতে হবে ।বুঝতে হবে তাদের প্রত্যেকটা সমস্যাকে।সমাধান করতে হবে সমস্যাগুলো মাথাখাটিয়ে।

বর্তমানের সন্তানেরা নষ্ট হয়ে যায় উপযুক্ত বন্ধুর অভাবে । তাকে সঠিক বন্ধু তৈরি করতে সহায়তা করুন।
তার বন্ধুদের খোঁজ-খবর নিন। তাদেরকে নিজের সন্তানের মতো ভাবুন ,ভালো পরামর্শ দিন । কারণ তারা ভালো হলেই আপনার সন্তান ভালো হবে। কথাই তো আছে,
“সঙ্গদোষে লোহা ভাসে।”আর একজন প্রকৃত বন্ধুর সংস্পর্শে আপনার সন্তানও একজন প্রকৃত মানুষরুপে গড়ে উঠবে। যা আপনার জন্য হবে অনেক বেশি গর্বের!

আপনিতো আপনার সন্তানকে উপযুক্ত মানুষ ,উপযুক্ত নাগরিক এবং উপযুক্ত সন্তান হিসেবে গড়ে তুলতে চান । তাকে উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে ,আপনি যা ইচ্চা তা করতে পারেন । সে মতে আপনি আপনার সন্তানের জন্য শহরের সবচেয়ে দামি এবং ভালো স্কুলটা খুঁজে বের করেন ,তাকে ঐ স্কুলে ভর্তি করান ।এবং শহরের সবচেয়ে ভালো টিউটর খুঁজে তাকে সেখানে প্রাইভেট পড়তে পাঠিয়ে দেন । সকালের সূর্য উদয় হওয়ার সাথে সাথে তার রেচ শুরু হয়ে যায় ।সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে প্রাইভেট তারপর স্কুল । স্কুল থেকে ফিরে লান্স এরপর আবার প্রাইভেট , ফিরে এসে ,পাঠ প্রস্তুত করার জন্য টেবিলে পড়তে বসা । এরকম করে তৈরী করে দেন আপনার সন্তানের দৈনিক রূটিন। শুধুমাত্র একজন বড় মানুষ হয়ে গড়ে ওঠার জন্য এই রুটিনগুলো তাদের জন্য তৈরী করেন।

এখন আপনার কাছে আমার একটা প্রশ্ন -সব সন্তানেরা কী এ রেচে জয় লাভ করতে পারে ?সবাই বাবা-মার উপযুক্ত সন্তান হিসেবে ফিরে আসে ?


উত্তরটা প্রাইক্ষেত্রে ন্যাগেটিভ হয় । কারণ এ রেচটা তাদের কাছে অনেক দূরত্ব মনে হয় ,তারা মাঝ পথে এসে ক্লান্ত হয়ে পরে ,তারপর আর সামনের দিকে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় না ।

একটু আপনার কথা ভাবুনতো ,আপনি সকালে ঘুম থেকে উঠে ,প্রথমে ফ্রেশ হয়ে সকলের সাথে সকালের নাস্তা করেন তারপরে নিজের কাজে বের হন। কিন্তু আপনার সন্তানটা তার নাস্তা আপনাদের সাথে করতে পারেতো। কিন্তু তাকে নাস্তা করতে হয় ,হয়তো কোনো একটা রেষ্টুরেন্টে বা স্কুল কেন্টিনে বন্ধুদের সাথে। আপনিতো আপনার কাজ শেষে বাসায় চলে আসেন এবং পরিবারের সবার সাথে সময় কাটান । আর আপনার সন্তানটা স্কুল শেষে বাসায় এসে খাওয়া- দাওয়ার পরে কোনো বিশ্রাম নিতে পারে কি ? না আবার প্রাইভেট এর জন্য প্রস্তুতি নেয়?

আপনি কি আপনার সন্তানকে মানুষ করার নামে ,তাকে আপনার কাছ থেকে দূরে রাখছেন না?
যে সন্তান সব সময় নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে ,সে কি সমাজের এবং নিজের পরিবারকে ভালো বাসার মতো সময় পায়? না ভাবার মতো সময় পায় ? পায় না ।

অন্যদিকে তাকে জোর করে ,বাধ্য করে শিক্ষা গ্রহন করানো হয় ,সে শিক্ষা কী তার জন্য উপযুক্ত শিক্ষা? আপনি একটু ভাবুনতো বাধ্য হয়ে গলাদ করন শীক্ষা তার জন্য উপযুক্ত শীক্ষা হতে পারে ?


আপনিতো আপনার সন্তানকে ভালোবাসেন , তাহলে কেন তাকে আপনার কাছ থেকে দূরে রাখেন?
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তাকে বাসায় পড়তে বসান মন খুলে নিজের মতো করে একটু পড়ুক ,তারপর একসাথে সকালের নাসতা করুন । তার সম্পর্কে বুঝতে চেষ্টা করুন। খেলার সময় তাকে খেলতে দেন ,যেটা তার শরীর ও মনের জন্য ভাল কাজ করবে। বিভিন্ন ছুটির দিনে আপনার সন্তানকে সময় দেন ,তার সম্পর্কে এবং তার বন্ধুদের জানতে চেষ্টা করুন। তার বন্ধুদের জানার মধ্য দিয়ে আপনার সন্তানকে ভালোভাবে জানতে পারবেন। একজন ছেলে সন্তানের জন্য বাবা এবং মেয়ে সন্তানের জন্য মা’ই হতে পারে একজন ভাল বন্ধু।

Popular Posts